কুরআনের আলোকে ঈমান আনয়নের আবশ্যকতা ও উহার পরিপন্থি জীবনাচরনের ভয়াবহতা

যেহেতু সঠিক ঈমানই ইসলাম ধর্মের মূলমন্ত্র ও মিল্লাতে ইসলামীর প্রধানভিত্তি। কোরআন ও সুন্নাহর  আলোকে একথা সুস্পষ্টরূপে পরিজ্ঞাত হওয়া একান্ত আবশ্যক যে, যাবতীয় ইবাদত বন্দেগী সহ জীবন মাত্রার সমগ্র কার্যক্রম কেবল তখনই আল্লাহর দরবারে সঠিক বলে স্বীকৃত ও গৃহিত হয়, যখন উহা সঠিক ঈমানের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়ে থাকে। আর যদি ঈমান বিশুদ্ধ না হয় তাহলে উহার ভিত্তিতে সম্পাদিত যাবতীয় কথা ও কাজ আল্লাহর নিকট বাতেল বলে গণ্য হয়। এমর্মে মহান আল্লাহ তা’আলা মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন-
      وَمَنْ يَّكْفُرْ بِاالْأِيْمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِىْ الْاخِرَةِ مِنَ الْخسِرِيْنَ
অর্থ : যে কেহ ঈমান প্রত্যাখ্যান করবে তার সমস্ত কাজ অবশ্যই বিফলে যাবে, এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তুর্ভূক্ত হবে। (সূরা মায়েদাহ্ আয়াত নং-৫)


অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-
وَلَقَدْ اُوْحِىَ اِلَيْكَ وَاِلَىْ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِك لَئِنْ اُشْرِكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْخسِرِيْنَ .
অর্থ: তোমার প্রতি এবং পূর্বে অতীত সমস্ত নবী রাসূল গণের প্রতি অবশ্যই এ বার্তা পাঠানো হয়েছে, তুমি যদি আল্লাহর সাথে শিরক(অংশিদার) কর তাহলে তোমার সমস্ত কাজ অবশ্যই বৃথা হয়ে যাবে, আর তুমি নিঃসন্দেহে বিশাল ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হবে। (সূরা যুমার আয়াত ৬৫)
    এই অর্থের স্বপক্ষে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আয়াতের সংখ্যা আনেক। আল্লাহ তা’আলার অবতীর্ণ কোরআন ও রাসূল স্ঃা এর বর্ণিত সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, সঠিক ঈমানের সার কথা হলো : আল্লাহ তা’আলার উপর, তার ফেরেশতাগণ, কিতাব সমূহ ও রাসূলগণের উপর, আখেরাতের উপর এভং ভাগ্যের মঙ্গল-অমঙ্গলের উপর এবং মৃত্যুর পর পূনরুত্থানের প্রতি অটল অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করা।
    এই সাতটি বিষয়ই হলো সেই সঠিক ঈমানের মৌলিক বিষয় বস্তু বা নীতিমালা যা নিয়ে নাযিল হলো আল্লাহর মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এবং প্রেরিত হলেন আল্লাহর পাক-পয়গাম্বর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট রাসুল হযরত মুহাম্মদ স্ঃা। এই মৌলিক নীতিমালারই শাখা-প্রশাখা হলো অদৃশ্য বিষয়াদী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স্ঃা কর্তৃক প্রদত্ত যাবতীয় খবরা খবর যেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য্য উক্ত নীতিমালার স্বপক্ষে কোরআনুল কারীম ও হাদীসে নববীর জলন্ত প্রমানাদি বিদ্যমান রয়েছে। যেমন-
    পবিত্র কোরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
لَيَسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْ اُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِكِ وَالْمَغْرِبِ وَلكِنَّ الْبِرَّ مَنْ أَمَنَ بِااللهِ وَالْيَوْمِ الْاخِرَةِ وَالْمَلئِكَةِ وَالْكِتَابِ النَّبِيَّنَ .
অর্থ : তোমরা পূর্ব দিকে মূখ করলে কি পশ্চিম দিকে, তা কোন পূণ্যের ব্যাপারে নহে। বরং প্রকৃত পূণ্যের কাজ হলো যে, আল্লাহ তা’আলা, পরকাল ও ফেরেশতাক‚ল অবতীর্ণ কিতাব সমূহ এবং প্রেরিত নবীগণের প্রতি নিষ্টার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করলো। (সূরায়ে বাক্বারা আয়াত নং ১৭৭)



    অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন:
أَمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَا اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَّبِّه وَالْمُؤْمِنُوْنَ كُلٌّ أَمَنَ بِاالله وَمَلئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِه - لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدمِّنْ رُّسُلِه .
অর্থ : রাসূল সেই হেদায়াতকেই (পথনির্দেশ) বিশ্বাস করেছেন যা স্বীয় প্রতিপালকের নিকট হতে তাঁর প্রতি নাযিল হয়েছে। আর মুমেনগণ ও সেই হেদায়াতকে মেনে নিয়েছে। তাই সকলেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাব সমূহ এবং রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা বলে ঃ আমরা আল্লাহর রাসূলগণের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করিনা। উপরোক্ত নীতিমালার প্রমানে সহীহ হাদীসের সংখ্যাও অনেক। তন্মধ্যে সেই সূপ্রসিদ্ধ সহীহ হাদীসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয় হাদীসগ্রন্থে আমীরুল মু’মেনীন হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) যখন নবী কারীম “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি উত্তরে বলেন- “ঈমান হচ্ছে তুমি আল্লাহ তা’আলার প্রতি, তাঁর সকল ফেরেশতাগণ, কিতাব সমূহ ও রাসূলগণের প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, আর এই বিশ্বাস ও স্থাপন করবে যে, ভাগ্যের ভাল-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত” উক্ত হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রহ.) উভয়েই হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা  করেছেন।

Previous Post Next Post

Contact Form